Posts

স্বপ্নের দেশে

ঘুমটা ভোরের দিকেই পাতলা হয়ে গেছে, কাল সারারাত ধরে বৃষ্টি হয়েছে, বৃষ্টি আর মেঘের গর্জন চলেছে ভোর অবধি। বালিশের পাশে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলাম ৫টা ৩৮। এত সকালে ওঠার কোনো মানেই হয় না। খবরের কাগজ, দুধ এসব আসতে আসতে ৮টা বেজে যাবে। আর এই রাতভোর বৃষ্টির মধ‍্যে মর্নিং ওয়াকেও যেতে খুব একটা ইচ্ছে করছে না। অগ‍্যতা শুয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করারও নেই।  তাই ফোনটা রেখে পাশ ফিরে শুলাম, চোখের পাতাটা লেগে আসলো মুহূর্তেই। ঠিক ঘুমোচ্ছি না, অথচ একটা আচ্ছন্ন ভাব। এটা ওটা মাথায় আসছে, হঠাৎই দেখতে পেলাম কামালদিয়ার আমাদের সেই মাটির বাড়িটা, সকাল বেলা মুরগির ঘর খুলে ডিম বের করে, দাতন নিয়ে পুকুর পাড়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছি আমি। মা-খুড়িমারা বাড়ির ভিতরের দিকের পুকুরটায় তখন বাসন মাঝছে।  আমাদের গ্রামের বাড়িতে তখন আমরা প্রায় জনা বিশেক লোক একসাথে থাকতাম।  কাকা,জ্যাঠা,ভাই-বোন সবাই মিলে সকাল থেকেই একটা জমজমাটি ব্যাপার।  হাত-মুখ ধুঁয়ে আমরা ভাই বোনেরা সবাই মিলে দাওয়ায়, পড়তে বসেছি। কিছুক্ষণ পরে মা এসে সবাইকে মুড়ি আর চা দিয়ে গেলো। স্বপ্নে সময় অনেক দ্রুত এগোয়, তার সাথে মিলিয়ে মিশিয়ে থাকে বাস্তব আর অবাস্তব দৃশ‍্যপট। একট...

উড়ো চিঠি

অফিস থেকে ফিরে, ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে রোজ একবার করে ডাকবাক্স’টা খুলে দেখা রূচি'র পুরোনো অভ্যাস। গত এক সপ্তাহব্যাপী কোনো চিঠিপত্র আসেনি। সুতরাং আজও ফাঁকা হাতেই ফিরতে হবে জেনেও বাক্সটা খুললো রূচি। কিন্তু তার সমস্ত মনে হওয়াকে ভুল প্রমাণ করে দিলো, হালকা কমলাভ রঙের, রেভিনিউ স্ট্যাম্প লাগানো একটা খাম। ঠিকানাটা অচেনা। বেশি সময় নষ্ট না করে, তাড়াতাড়ি উপরে ওঠে এলো সে। ফ্ল্যাটের দরজা খুলে, টেবিলের উপর খাম'টা রাখলো। তারপর ফ্রেশ হয়ে এক কাপ গরম জল করে, টি-ব্যাগ নিয়ে ফ্যান চালিয়ে, সোফায় বসে চিঠিটা খুললো রুচি-  "প্রিয় রু, আশা করি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থই আছো! আশা করি এখন ঘুম থেকে উঠতে লেট হয়'না। আশা করি এখন আর, ব্রেকফাস্ট স্কিপ করো'না।" রুচির মনে পড়লো- আজ সকালেও তো ব্রেকফাস্ট করতে ভুলে গেছিলো সে। তাই অফিসে গিয়ে তাড়াতাড়ি লাঞ্চ করতে হয়েছিলো তাকে। খিদে সহ্য করতে পারেনা ও কোনদিনই। কিন্তু ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেলে, রীতিমত দৌড়াতে হয় তাকে, ন’টার মধ্যে লগইন করতে না পারলেই কেলেঙ্কারি, বস লেট অ্যাপ্রুভ করেনা। আরও পড়লো রুচি- “আজকাল আমিও বেশ ভালোই আছি জানো! একটা...

নাটকের জন্য

[ট্রেন প্লাটর্ফম ছেড়ে যাওয়ার আওয়াজ,আসতে আসতে আলো পড়ছে, মঞ্চের উপর।চৈত্রের গরমে লোকজন নেই স্টেশনে। বাঁ দিকে কাঠের চেয়ারে, ২৫-২৬ বছর বয়সী এক যুবতীকে, বসে, পা নাড়াতে নাড়াতে ফোনে স্ক্রল করতে দেখা যাচ্ছে। মঞ্চের সামনের দিকে আলো পড়েছে, নীচ থেকে মঞ্চের উপর লাফিয়ে উঠে আসলো সালোয়ার কামিজ পরা একজন পুরুষালী চেহারার মানুষ, যাকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে চিহ্নিত করা যায়। পরনের ওড়না দিয়ে ঘাম মুছতে মুছতে চেয়ারে মেয়েটার পাশে গিয়ে বসলো সে।]  কাউকে উদ্দেশ্যে না করে নিজে নিজেই বললো- -উফ্ মরার মতো গরম পড়েছে! বাপরে বাপ ! [পাশের মেয়েটি তখনও ফোনর দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটির দিকে তাকিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষটি বললো] -কটা বাজলো গো দিদি?  মাথা না তুলেই মেয়েটি সাড়া দিল- -২ টো ২৮।  -তালে তো এখনো খানিক দেরী লাগাবে ট্রেন আসতে।  -হুম ওই ১৬-১৭ মিনিট মতো।  -জল আছে গো তোমার কাছে? আজগে এতো দেরি হয়ে গেলো বেড়াতে, জল নিতেই ভুলে গেছি। তেষ্টায় জীবনটা এক্কেরে বেড়িয়ে যাচ্ছে গো।  -হ্যাঁ আছে। দাঁড়াও দিচ্ছি।   [এই বলে ব্যাগ থেকে জল বেড় করে হাতে দিলো মেয়েটি। বোতল টা নিয়ে আলগোছে জল খেতে খেতে জামায়...

বাইশে_বিলাপ

লেখার মতো শব্দ পাই না মোটেও বলতে গেলে কথারাও সব জড়া আগুনের বুকে নীলচে আভার মতো আমার আকাশে তুমিই তো শুকতারা।  তোমার সঙ্গে আঁধার পেরোনো ভোরে- খড়কুঠো দিয়ে কথার বেড়েছে স্রোত।  আঙুল ছোঁয়া, আঙুলের কারবারী জানে ঠোঁটের পৃষ্ঠে ঠোঁট না রাখার শোক।  ডুবতে ডুবতে সাগর,নদী,ঢেউ বরফ জমছে তোমার অতল জলে সময়ের চাপে ক্ষয়ে যেতে থাকে আয়ু বেঁচে থাকি তবু তোমার স্বপ্ন বুনে।  আর কি আছে পাওনা আমার বলো? দূরত্ব রেখে অমোঘ চেয়ে থাকা! পেয়েছি যত, সামলে রেখেছি আরও স্বপ্নে তোমায় পাওয়ার উন্মাদনা। হাঁটছি ভীষন, ছুটছি জোরে তারও বক্ষে আমার আহ্বান, তবু কণ্ঠ নিশ্চুপ পাঁজরের নীচে লুকিয়ে সব ক্ষত- সৃষ্টি করি আমি, আমিই তীব্র ধ্বংসরূপ।।  ©দীপশ্রী গুহ

দু'এক মুঠো ধুলো বালি যখন যারা আসবে মনে

লিখব আমি এক পৃথিবী? শব্দ নেই কল্প নেই,  গহিন মনে গল্প নেই।  স্বপ্ন- কেবল একটা-দুটো পথ ভুল হলে, পাশে বসে।  নীলচে আলোয় ঘুমপাড়িয়ে, রোদের তলায় দুঃখবিলাস।  দমকা হাওয়া উদাস বলেই, মন্দ বাতাস ঘাসের শিস-এ।  পোর্সেলিনে- সুখ জমানো।  জিয়নকাঠি রক্ষী সেজে দাঁড়িয়ে আছে মরুর দেশে।  মেঘবালিকাও আষাঢ়পানে।  দরজা তাই বন্ধ পড়ে বুকের মাঝে পাথর ঠেসে। ঝরনা কোথাও ঝড়ছে না আর।  পর্যটকহীন পান্থশালাও।  কালির দোয়াত উপুড় হয়ে কাগজ-কলম, বিদ্রোহতে।  এমনিভাবেই ছাপোসা দিন কাটছে ভীষন আপোষ করেই।  ভাবছি তবু একলা আমি- বাঁধবো বাসা লাল মাটিতে।  এই নিয়ে কি কাব্য রচে! রঙীন হয় জীবনচরিত! অন্তমিলের হাত ধরে তাই বানানতত্ত্ব ফুঁ’য়ে ওড়াই।।  ©দীপশ্রী গুহ
আমরা তো প্রেমিকজন নই, তাই বোধহয় আমাদের মধ্যে অনেকখানি দূরত্ব সহজেই ধরা পড়ে।  আমার বন্ধুও নই, তাই আমাদের বৃত্ত, আমাদের কেন্দ্র থেকে পরিধিও এক নয়। বৃষ্টিভেজার নিয়মও তাই অনেক আলাদা।  রোদ গায়ে মেখে এক-দু’বার খিলখিলিয়ে উঠতে গেলেই, ততক্ষণাত মনে পড়ে দুর্বিসহ খরা’র দিনগুলো কাটিয়ে ওঠার নিস্পৃহ ভয়াবহতা। আমরা কাছাকাছি থাকলেও- এখনও অনেকখানি অচেনা।  আমরা প্রাক্তন নই, প্রেমিক তো একেবারেই নই, তাই রাগ আর অভিমানেরাও অবগুণ্ঠনের আড়ালে।  যদিও বন্ধু হওয়ার চেষ্টা হয়তো নিজেদের মতো করে নিজেরা করেছিলাম কয়েকবার, কিন্তু বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আসা যায়নি বলে সেটাও জেহাদ করেছে।  আসলে আমাদের মধ্যে সেরকম কোন সম্পর্কই নেই, আমরা খানিকটা মুখচেনা রকমের পরিচিত।  রোজ চোখে পড়ে, কানে আসে, সূত্র মেনে মাঝে মাঝে খোঁজও নেওয়া হয়, “শরীর কেমন? মন কেমন?” ইত্যাদি।  তবে সত্যি বলতে একে অপরকে খারাপ বা ভালো রাখার দায়িত্ব, আমাদের কারোর উপরেই বর্তায় না কখনও। সবটুকুই ভীষণভাবে ঐকান্তিক।  এমনকি ইচ্ছে করেই হয়তো শূণ্যতার পিছনে আঁকড়ে থাকা উত্তাপের খবরটুকুও, তাই নেওয়া হয়না কারোর। আর শেষবেলায় পৌঁছালে টের পাওয়া যায়...

হ্যাসট্যাগ অন্য আমি

জানলা খুললে এক-দু ফোঁটা রোদ তখনও এসে পড়ছে ঠোঁটের কাণায়।  আমসত্ত্ব খেতে খেতে স্বপ্ন দেখছি পাহাড় চুড়ো।  গল্পের বই পড়ার অভ্যেস নেই, তবু বাড়িতে কেউ না থাকলে শো-কেস থেকে “নহন্যতে” নামিয়ে পড়তে বেশ ভালো লাগছে।  সকালবেলা রুটিন দেখে ব্যাগে বই ঢোকানোর সময় মনে পড়লো- ফোর্টনাইট ওভার, লাইব্রেরির বইটা ফেরৎ দেওয়া হয়নি।  স্কুল ছুটির পর দু’টাকার আলুকাবলি চারজনে মিলে খেয়ে, হাত দিয়ে নাক মুছতে মুছতে বাড়ি ফিরছি।  গাড়ি রাস্তা পার হতে তখনও একটা শক্ত হাত লাগে। আকাশ দিয়ে প্লেন উড়ে গেলে, হাঁ করে মাঝ রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে যাই। খেলতে গিয়ে হাঁটু ছড়ে গেলে, চিৎকার করে কাঁদছি তখনও।  সন্ধ্যেবেলা হারমোনিয়ামে মা’তে সুর লাগছে না বলে, মা’র কাছে বেধরক মার খাচ্ছি। অঙ্ক আর ভূগোল তখনও বাবার ডিপার্টমেন্ট। অ্যান্টেনা উপর-নীচে করলে তবে ডিডি বাংলা’টা আসে টিভিতে। মাছ বেছে দেয় মা, ডাল মাখা ভাত আর একটু মাছ খাওয়া হয়ে গেলেই, ইয়াহ বড়ো বড়ো হাই তুলে ঘুমের সাথে সখ্যতা।  বড়ো হওয়ার প্রাণপণ ইচ্ছে তখনও রন্ধ্রে রন্ধ্রে।। 

অর্পিতা

তোমায় একটা গল্প বলি মিষ্টি মেয়ে, জমজমাটি কথায় কথায় লাফিয়ে বেড়ায় একে ওকে ছন্দে মাতায়।।  সবাইকে সে কাছে টেনে- মনের থেকে আপন করে।  মাঝে মাঝে রেগেও যায় জানালা খুলে দু’হাত বাড়ায়।।  বৃষ্টি নাকি খুব প্রিয় তার সুযোগ পেলেই হাতছানি দেয়।  নিজের কেয়ার থোড়াই করে! পরের সুখে বাঁচতে জানে।।  চোখ দুটি তার মায়ায় ভরা স্নেহের পরশ হৃদয় কারা।  এমন একটি মিষ্টি মেয়ে গান গেয়ে যায় প্রাণ ভরে।  অভিমান, হয় একটু বেশী  তবু কারো কাছে তা- বিকায় না সে, খুব সাহসী সেই মেয়েটি অল্পে খুশি- ভালোবাসায় পারদর্শী।  গল্প নয় এ সত্যিকথা মেয়েটির নাম অর্পিতা।  আদর আর সোহাগভরা  উপহার দিই ভালো-বাসা  জন্মদিন খুব সুখে কাটুক রামধনু রং জীবন ভরুক।। 

এনকাউন্টার

                         (১) পেপারে আর খবরের চ্যানেলগুলোতে বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন যায়গায় সন্ত্রাসবাদের ঘটনা শোনা যাচ্ছিলো দফায় দফায়। সম্রাটের ফোনটা পাঁচ’দিন ধরে নট...

হ‍্যাপ্পি চিলড্রেন্স ডে

আমারক্ষেত্রে, ছোটবেলায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছেটা সবসময়ই যেন একটা ধ্রুবক হিসেবে কাজ করে। সবসময়ই মনে হয়, সেই নিশ্চিন্ত শৈশবের দিনগুলোতে- যদি আবার ডুব দিতে পারতাম.....! বহুদিন পর, আজ...