আমরা তো প্রেমিকজন নই, তাই বোধহয় আমাদের মধ্যে অনেকখানি দূরত্ব সহজেই ধরা পড়ে।
আমার বন্ধুও নই, তাই আমাদের বৃত্ত, আমাদের কেন্দ্র থেকে পরিধিও এক নয়। বৃষ্টিভেজার নিয়মও তাই অনেক আলাদা।
রোদ গায়ে মেখে এক-দু’বার খিলখিলিয়ে উঠতে গেলেই, ততক্ষণাত মনে পড়ে দুর্বিসহ খরা’র দিনগুলো কাটিয়ে ওঠার নিস্পৃহ ভয়াবহতা।
আমরা কাছাকাছি থাকলেও-
এখনও অনেকখানি অচেনা।
আমরা প্রাক্তন নই, প্রেমিক তো একেবারেই নই, তাই রাগ আর অভিমানেরাও অবগুণ্ঠনের আড়ালে।
যদিও বন্ধু হওয়ার চেষ্টা হয়তো নিজেদের মতো করে নিজেরা করেছিলাম কয়েকবার, কিন্তু বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আসা যায়নি বলে সেটাও জেহাদ করেছে।
আসলে আমাদের মধ্যে সেরকম কোন সম্পর্কই নেই, আমরা খানিকটা মুখচেনা রকমের পরিচিত।
রোজ চোখে পড়ে, কানে আসে, সূত্র মেনে মাঝে মাঝে খোঁজও নেওয়া হয়, “শরীর কেমন? মন কেমন?” ইত্যাদি।
তবে সত্যি বলতে একে অপরকে খারাপ বা ভালো রাখার দায়িত্ব, আমাদের কারোর উপরেই বর্তায় না কখনও। সবটুকুই ভীষণভাবে ঐকান্তিক।
এমনকি ইচ্ছে করেই হয়তো শূণ্যতার পিছনে আঁকড়ে থাকা উত্তাপের খবরটুকুও, তাই নেওয়া হয়না কারোর।
আর শেষবেলায় পৌঁছালে টের পাওয়া যায় আমাদের গোত্র আলাদা, কূলও আলাদা। সেইকারণেই, আমরা আত্মীয় হতে পারবো না কোনদিন! বরং খানিকটা উত্তাপহীন পরিচিত, আর মাইল-খানিক দূরত্ব নিয়ে থেকে যাবো বেশ কয়েকটা পাতাঝরার মরশুম।
Comments
Post a Comment