উড়ো চিঠি
অফিস থেকে ফিরে, ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে রোজ একবার করে ডাকবাক্স’টা খুলে দেখা রূচি'র পুরোনো অভ্যাস।
গত এক সপ্তাহব্যাপী কোনো চিঠিপত্র আসেনি। সুতরাং আজও ফাঁকা হাতেই ফিরতে হবে জেনেও বাক্সটা খুললো রূচি। কিন্তু তার সমস্ত মনে হওয়াকে ভুল প্রমাণ করে দিলো, হালকা কমলাভ রঙের, রেভিনিউ স্ট্যাম্প লাগানো একটা খাম। ঠিকানাটা অচেনা। বেশি সময় নষ্ট না করে, তাড়াতাড়ি উপরে ওঠে এলো সে। ফ্ল্যাটের দরজা খুলে, টেবিলের উপর খাম'টা রাখলো। তারপর ফ্রেশ হয়ে এক কাপ গরম জল করে, টি-ব্যাগ নিয়ে ফ্যান চালিয়ে, সোফায় বসে চিঠিটা খুললো রুচি-
"প্রিয় রু,
আশা করি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থই আছো! আশা করি এখন ঘুম থেকে উঠতে লেট হয়'না। আশা করি এখন আর, ব্রেকফাস্ট স্কিপ করো'না।"
রুচির মনে পড়লো- আজ সকালেও তো ব্রেকফাস্ট করতে ভুলে গেছিলো সে। তাই অফিসে গিয়ে তাড়াতাড়ি লাঞ্চ করতে হয়েছিলো তাকে। খিদে সহ্য করতে পারেনা ও কোনদিনই। কিন্তু ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেলে, রীতিমত দৌড়াতে হয় তাকে, ন’টার মধ্যে লগইন করতে না পারলেই কেলেঙ্কারি, বস লেট অ্যাপ্রুভ করেনা।
আরও পড়লো রুচি-
“আজকাল আমিও বেশ ভালোই আছি জানো! একটা নতুন চাকরি পেয়েছি, মাইনেও ভালোই। এখন আর যখন তখন ডিস্কো’তে যাইনা। নিয়ম করে বাজার যাই, রান্না করি। তোমার দেওয়া টাই'টা সবকটা মিটিং-এই পড়ি, সবাই খুব প্রশংসাও করে। আসলে তোমার পছন্দ'টা, চিরকালই চোখে পড়ার মতো।
যাইহোক, আর বেশি সময় নষ্ট করবো'না তোমার। শুধু একটা অনুরোধ- জানিনা সম্ভব হবে কিনা রাখা। তবুও যদি কখনও আমাকে মনে পরে, টেলিফোন নয়, চিঠি লিখো। চিঠিতে তোমার গায়ের গন্ধ পাবো।
-ইতি
শতরূপা”
রূচির মনে পড়লো, দু’বছর আগে কতখানি কষ্ট বুকে বেঁধে চলে যেতে হয়েছিলো শতরূপা’কে।
একদিন রাতে অফিস থেকে ফিরে রূচি দেখেছিলো, পুরো ফ্ল্যাটটা সুন্দর করে সাজানো। শ্যাম্পেনের গ্লাস’টা হাতে নিয়ে চিয়ার্স করার পর, একটা ডায়মন্ড রিং দিয়ে শতরূপা প্রোপোজ করেছিলো রূচি’কে। কিন্তু সমাজ আর পরিবারের কথা ভেবেই, রূচি একরকম বাধ্য হয়েই কতগুলো অপমানজনক কথা বলায়, পরের দিনই ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে গিয়েছিলো শতরূপা।
চিঠিটা ড্রয়ারে রেখে চোখ মুছলো রূচি।।
©দীপশ্রী গুহ
Comments
Post a Comment