Posts

রংমহল

অবেলা দুপুরে জানিয়ে দিলে বৃথা এই আলাপচারিতা। মুখের উপর বন্ধ করলে আশায় বাঁধা জানলা-দরজা। শুরু হলো প্রশ্নের উত্তরে এড়িয়ে যাওয়া, বন্ধ হলো রাতবিরেতের সমস্ত হোয়াটস্যাপ। হ...

সফল আমি

রোজকার মতনই অফিসে অফিসে ঘুরে চাকরি না পাওয়ার ব্যর্থতা নিয়ে ভিড় বাসে বাড়ি ফিরছিলাম, হটাৎ করেই চোখে পড়লো রাস্তার ধারে একটা পোস্টার, তাতে বড়ো বড়ো করে কালো হরফে লেখা রয়েছে- " ব্যর্থতাই, সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি।"  মাইকে ভাষন হচ্ছিলো, শুনে যা বুঝলাম, কাছেপিঠে কোথাও সাইকোলজিকাল ওয়ার্কশপের মতো কিছু একটা হচ্ছে। বাসে তিল ধারণের পর্যন্ত জায়গা নেই, তার ওপর গরমটাও জাকিয়ে পড়েছে। কোনোমতে হ্যান্ডেলটা ধরে সামনে একটা মহিলার উপরে প্রায় ঝুকে দাঁড়িয়ে আছি। আর জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি। পোস্টারের লেখাটা তখনও চোখে ভাসছে, হঠাৎই মাথায় ভীড় করে এলো পুরোনো কিছু স্মৃতি। মনে পরলো, -ছোটবেলায় একবার বাংলা ছাড়া অন্য কিছু পড়বোনা বলে জেদ করায়, মা'র কাছে কি বকাই না খেয়েছিলাম। আসলে বাংলাটা  চিরকালই ছিলো পছন্দের বিষয়, সহজেই বাক্যরচনা, টিকা এসব গুছিয়ে লিখতে পারতাম, মাঝে মাঝে দু-চার লাইন ছড়াও লিখতাম, তবে সেদিন মা'র চোখ রাঙানি আর বাবার ধমকের তলায় চাপা পড়ে গেছিলো 'কচি মনের কচি আহ্লাদ।' নাচতে ভালোলাগতো খুব, একদিন মুখ ফুটে আবদার করেছিলাম- "আমি নাচ শিখবো!" শুনে, জ্যেঠি  বললো-  "ওসব নাচ ঠাচ...

ষোল আনাই মিছে

আমরা তখন এ পাড়ায় নতুন, শ্যামলী আমাদের বাড়িতে ঠিকে কাজ করতো। আশেপাশেরও বেশ কয়েকটা বাড়িতে ঠিকে কাজ করে সংসার চালাতো। তবে ইদানিং আর করে না। বেশ কিছু বছর হলো ও একটা গেঞ্জির কা...

ট্রান্সজেন্ডার

আমরা যারা নিয়মিত ট্রেনে,বাসে যাতায়াত করি তাদের কাছে এক বিশেষ মানুষের হাততালির শব্দ খুবই চেনা কিংবা পার্কের আঙিনায় অথবা সদ্যোজাতের বাড়ির দোরগোড়ায়, হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন আমি সেই মানুষ গুলোর কথাই বলছি যারা তথাকথিত “হিজরা”নামে ভূষিত। দু-তিন বছর আগের কথা তখন সার্দান এভিনিউতে আমার অফিস ছিলো। ৫ টায় অফিস শেষে লেক গার্ডেন্স স্টেশন হয়ে ট্রেনে বাড়ি ফিরতাম, স্বভাবতই স্টেশন সংলগ্ন লেক’ই ছিলো রোজকার যাতায়াতের পথ। ৫:৩৫ এর বজবজ লোকালে শিয়ালদহ সেখান থেকে আবার নর্থ এর ট্রেন। অফিস থেকে লেকের দূরত্ব ৮ মিনিটের, তাই বাকি সময়টুকু লেকে বসেই কাটাতাম। অনেকরকম লোকের আনাগোনা দেখতাম, কেউ হাটতে এসেছে, কেউ বাচ্চাদের খেলাতে, একটা স্ট্রিট ডান্সের গ্রুপ ছিলো এইসব কিছুর থেকেও বেশী যারা ছিলো তা হল ভিক্ষারী তাদের মধ্যে কিছু জন ভিক্ষা করতো নেশায় আর কিছুজন পেশায়। তাই বেশ কিছুদিন পর মোটামুটি সকলেরই মুখ চেনা হয়ে গেছিলো। এরই মধ্যে একজন ছিলো মলি মাসী। বেশ স্বাস্থ্যবান,প্রায় ৫ফুট ৫ কিংবা ৬ ইঞ্চি লম্বা বছর ৭০-৭২ এর এক প্রৌঢ়া, পরনে রঙ চটে যাওয়া আর নোংরা সালোয়ার-কামিজ আর হাতে ১০ আর ২০ টাকার নোটের গোছা, একটা পা খোঁড়া, তাই সা...

গল্প কথা

বহুদূর হতে আসিনু হেথা বহুপথ এখনও আছে বাকি; তোমার সাথে অচেনা পথে দেখা, স্বপ্ন মাখিয়ে অনায়াসে দিলে ফাঁকি! তবু নাহি কোন ক্ষোভ, নাহি বিষাদ মম শূন্য হৃদয়ে- পূর্ণ মিলন স্বাদ। বহুদিন, বহুমাস একাকী জীবন পার করে, না জানি কেনো তবু স্তব্ধ দুপুরে, প্রহর গোনা শেষে- ইশান কোণে স্মৃতিরা, আজও আসে ভেসে।।

সর্তকতা

বাঁচতে মোরা ডরবো না লড়তে গিয়ে থামবো না করোনা হার মানবে যেনো তোমরা শুধু ঘরে থেকো।। © স্বাতীলেখা

হঠাৎ দেখা

“রেলগাড়ির কামরায়  হঠাৎ দেখা, ভাবিনি সম্ভব হবে কোনদিন।। ” কবিতাটা পড়তে পড়তে চোখের কোণাটা সামান্য চিকচিক করে উঠলো নীরার। প্রায় দশ বছর, দশ বছর বাদে চোখের সামনে আবার সিনেমার মতো ভেসে উঠলো পুরোটা। - লঞ্চটা তখন হাওড়া ব্রিজের ঠিক নীচে। আচমকা বান আসলো নদীতে, লঞ্চটা পুরো কাত হয়ে যাচ্ছে একপাশে , নীরা চোখ বন্ধ করে, প্রানপণে সামনের লোহার হাতল'টা শক্ত করে ধরে আছে, বরাবরই জলে ভীষন ভয় ওর। হঠাৎই অনুভব করলো- ওর হাতের ওপর আর একটা পুরু হাতের স্পর্শ, বুঝতে সময় লাগলো না নীরার। এবার আস্তে আস্তে চোখ খুললো নীরা, কিছু বলার আগে আঙ্গিক বললো- ‘ভয় পাচ্ছিস কেনো আমি আছি তো!’ কিছুুক্ষন দুজনেই চুপ করে তাকিয়ে রইলো একে ওপরের চোখে।   "-চেনা লোককে দেখলেম অচেনার গাম্ভীর্যে।।" ধীরে-ধীরে নদী আবার শান্ত হলো। আঙ্গিক  হাতটা কখন সরিয়ে নিয়েছিল, খেয়াল নেই নীরার। তবে সত‍্যিই সেদিন মনে হয়েছিলো হয়তো কেউ অন্তত আছে পাশে থাকার মতো, - সারাজীবন।। আঙ্গিক আর নীরা সমবয়সী, কলেজে একই ডিপার্টমেন্ট, তবে ভালো বন্ধুত্ব ছাড়া আর কেউই কিছু উপলব্ধি করেনি গত তিনবছরে কখনও। দিনটা খুব সম্ভবত ২১শে জানুয়ারি ছিলো, কলেজের শেষদিন। দুজনেই ফেয়ার...

ভাঙছে বিশ্বাস, বাড়ছে আতঙ্ক

সারাদিন টিভিতে খবরের সামনে বসে থাকতে থাকতে ভয়টা বোধহয় আর বিশেষ লাগছে না। কিংবা হয়তো আতঙ্ক নিয়ে চলতে চলতে ব্যাপারটা নেহাত লুডো খেলার মতো হয়ে যাচ্ছে, যখন তখন কেউ খেয়ে নেবে ...

প্রশ্ন নিয়ে

চিনে ছিলাম তোমায় কখনও টুপু জলে ভর্তি ছিল কোপাই তখনও। তারপর যুগের স্রোত পেরিয়ে- হঠাৎ তোমায় দেখতে পেলাম সামনে আবার ফিরতি পায়ে থমকে গেলাম অদূরে তোমার। আছো কি ঠিক আগের মত? সে...

সূর্যহীন প্রত‍্যূষ যেমন

রাত কাটছে রোজই, লালের জমাট পূব দুয়ারে শুনবে না জেনেও নিয়ম করে শব্দ বুনি তারস্বরে। প্রয়োজন আর অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততার হিসেব এখন নিকোটিন রাখে নিঃশব্দ ঢেউয়ের, স্রোতের টান- বই...