Posts

দু'এক মুঠো ধুলো বালি যখন যারা আসবে মনে

লিখব আমি এক পৃথিবী? শব্দ নেই কল্প নেই,  গহিন মনে গল্প নেই।  স্বপ্ন- কেবল একটা-দুটো পথ ভুল হলে, পাশে বসে।  নীলচে আলোয় ঘুমপাড়িয়ে, রোদের তলায় দুঃখবিলাস।  দমকা হাওয়া উদাস বলেই, মন্দ বাতাস ঘাসের শিস-এ।  পোর্সেলিনে- সুখ জমানো।  জিয়নকাঠি রক্ষী সেজে দাঁড়িয়ে আছে মরুর দেশে।  মেঘবালিকাও আষাঢ়পানে।  দরজা তাই বন্ধ পড়ে বুকের মাঝে পাথর ঠেসে। ঝরনা কোথাও ঝড়ছে না আর।  পর্যটকহীন পান্থশালাও।  কালির দোয়াত উপুড় হয়ে কাগজ-কলম, বিদ্রোহতে।  এমনিভাবেই ছাপোসা দিন কাটছে ভীষন আপোষ করেই।  ভাবছি তবু একলা আমি- বাঁধবো বাসা লাল মাটিতে।  এই নিয়ে কি কাব্য রচে! রঙীন হয় জীবনচরিত! অন্তমিলের হাত ধরে তাই বানানতত্ত্ব ফুঁ’য়ে ওড়াই।।  ©দীপশ্রী গুহ
আমরা তো প্রেমিকজন নই, তাই বোধহয় আমাদের মধ্যে অনেকখানি দূরত্ব সহজেই ধরা পড়ে।  আমার বন্ধুও নই, তাই আমাদের বৃত্ত, আমাদের কেন্দ্র থেকে পরিধিও এক নয়। বৃষ্টিভেজার নিয়মও তাই অনেক আলাদা।  রোদ গায়ে মেখে এক-দু’বার খিলখিলিয়ে উঠতে গেলেই, ততক্ষণাত মনে পড়ে দুর্বিসহ খরা’র দিনগুলো কাটিয়ে ওঠার নিস্পৃহ ভয়াবহতা। আমরা কাছাকাছি থাকলেও- এখনও অনেকখানি অচেনা।  আমরা প্রাক্তন নই, প্রেমিক তো একেবারেই নই, তাই রাগ আর অভিমানেরাও অবগুণ্ঠনের আড়ালে।  যদিও বন্ধু হওয়ার চেষ্টা হয়তো নিজেদের মতো করে নিজেরা করেছিলাম কয়েকবার, কিন্তু বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আসা যায়নি বলে সেটাও জেহাদ করেছে।  আসলে আমাদের মধ্যে সেরকম কোন সম্পর্কই নেই, আমরা খানিকটা মুখচেনা রকমের পরিচিত।  রোজ চোখে পড়ে, কানে আসে, সূত্র মেনে মাঝে মাঝে খোঁজও নেওয়া হয়, “শরীর কেমন? মন কেমন?” ইত্যাদি।  তবে সত্যি বলতে একে অপরকে খারাপ বা ভালো রাখার দায়িত্ব, আমাদের কারোর উপরেই বর্তায় না কখনও। সবটুকুই ভীষণভাবে ঐকান্তিক।  এমনকি ইচ্ছে করেই হয়তো শূণ্যতার পিছনে আঁকড়ে থাকা উত্তাপের খবরটুকুও, তাই নেওয়া হয়না কারোর। আর শেষবেলায় পৌঁছালে টের পাওয়া যায়...

হ্যাসট্যাগ অন্য আমি

জানলা খুললে এক-দু ফোঁটা রোদ তখনও এসে পড়ছে ঠোঁটের কাণায়।  আমসত্ত্ব খেতে খেতে স্বপ্ন দেখছি পাহাড় চুড়ো।  গল্পের বই পড়ার অভ্যেস নেই, তবু বাড়িতে কেউ না থাকলে শো-কেস থেকে “নহন্যতে” নামিয়ে পড়তে বেশ ভালো লাগছে।  সকালবেলা রুটিন দেখে ব্যাগে বই ঢোকানোর সময় মনে পড়লো- ফোর্টনাইট ওভার, লাইব্রেরির বইটা ফেরৎ দেওয়া হয়নি।  স্কুল ছুটির পর দু’টাকার আলুকাবলি চারজনে মিলে খেয়ে, হাত দিয়ে নাক মুছতে মুছতে বাড়ি ফিরছি।  গাড়ি রাস্তা পার হতে তখনও একটা শক্ত হাত লাগে। আকাশ দিয়ে প্লেন উড়ে গেলে, হাঁ করে মাঝ রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে যাই। খেলতে গিয়ে হাঁটু ছড়ে গেলে, চিৎকার করে কাঁদছি তখনও।  সন্ধ্যেবেলা হারমোনিয়ামে মা’তে সুর লাগছে না বলে, মা’র কাছে বেধরক মার খাচ্ছি। অঙ্ক আর ভূগোল তখনও বাবার ডিপার্টমেন্ট। অ্যান্টেনা উপর-নীচে করলে তবে ডিডি বাংলা’টা আসে টিভিতে। মাছ বেছে দেয় মা, ডাল মাখা ভাত আর একটু মাছ খাওয়া হয়ে গেলেই, ইয়াহ বড়ো বড়ো হাই তুলে ঘুমের সাথে সখ্যতা।  বড়ো হওয়ার প্রাণপণ ইচ্ছে তখনও রন্ধ্রে রন্ধ্রে।। 

অর্পিতা

তোমায় একটা গল্প বলি মিষ্টি মেয়ে, জমজমাটি কথায় কথায় লাফিয়ে বেড়ায় একে ওকে ছন্দে মাতায়।।  সবাইকে সে কাছে টেনে- মনের থেকে আপন করে।  মাঝে মাঝে রেগেও যায় জানালা খুলে দু’হাত বাড়ায়।।  বৃষ্টি নাকি খুব প্রিয় তার সুযোগ পেলেই হাতছানি দেয়।  নিজের কেয়ার থোড়াই করে! পরের সুখে বাঁচতে জানে।।  চোখ দুটি তার মায়ায় ভরা স্নেহের পরশ হৃদয় কারা।  এমন একটি মিষ্টি মেয়ে গান গেয়ে যায় প্রাণ ভরে।  অভিমান, হয় একটু বেশী  তবু কারো কাছে তা- বিকায় না সে, খুব সাহসী সেই মেয়েটি অল্পে খুশি- ভালোবাসায় পারদর্শী।  গল্প নয় এ সত্যিকথা মেয়েটির নাম অর্পিতা।  আদর আর সোহাগভরা  উপহার দিই ভালো-বাসা  জন্মদিন খুব সুখে কাটুক রামধনু রং জীবন ভরুক।। 

এনকাউন্টার

                         (১) পেপারে আর খবরের চ্যানেলগুলোতে বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন যায়গায় সন্ত্রাসবাদের ঘটনা শোনা যাচ্ছিলো দফায় দফায়। সম্রাটের ফোনটা পাঁচ’দিন ধরে নট...

হ‍্যাপ্পি চিলড্রেন্স ডে

আমারক্ষেত্রে, ছোটবেলায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছেটা সবসময়ই যেন একটা ধ্রুবক হিসেবে কাজ করে। সবসময়ই মনে হয়, সেই নিশ্চিন্ত শৈশবের দিনগুলোতে- যদি আবার ডুব দিতে পারতাম.....! বহুদিন পর, আজ...

প্রিয়তম

প্রিয়তম তোমায় বলিনি কখনও তোমার গায়ে আমি বর্ষার গন্ধ পাই, তাই হয়তো আমার শরীর থেকেও মুষলধারে বৃষ্টি পড়ে।  প্রিয়তম তোমায় বলিনি কখনও তোমার চোখে আমি স্বর্গ খুঁজে পাই, তাই হয়তো বেদনার্ত জীবনটাকে নিছক মায়া বলে উড়িয়ে দেওয়াটা খুব সহজ এখন।  প্রিয়তম তোমায় বলিনি কখনও তোমার শ্বাসে আমি উষ্ণতার পরশ পাই, তাই হয়তো আমার সারা শরীর জুড়ে লাভার মতো অগ্ন্যুত্পাত হয় তুমি এসে দাঁড়ালে।  প্রিয়তম তোমায় বলিনি কখনও তোমার ছোঁয়ায় আমার অমৃতের নেশা লাগে, তাই হয়তো মৃত্যুঞ্জয় হয়ে থাকি তোমার অপেক্ষায়। আর শুধু তোমার নেশায় মাতোয়ারা হয়ে এগিয়ে যাচ্ছি এক শীতল মৃত্যুর দিকে- তোমার কাছে, তোমার আরও আরও কাছে।

বারমাসী

বহু-শব্দে, বহু-বাক্যে উষ্ণতা দিয়ে পৌষে, ফেলে গেছো অগোচরে, ফাগুনের শেষে। স্মৃতি নিয়ে বিছানাতে কালবৈশাখী, ভাসিয়েছো ভাদ্রতে আষাঢ়ীয় চিঠি। পুড়ে গেছে নিকোটিনে ভাঙা মন তাই, আ্...
তোমার কথাই ভাবছি আমি,  ভাবছি প্রতিদিন, তোমায় নিয়েই গল্প আমি- লিখছি সারাদিন।  পায়ের সাথে পা মেলাই আর শ্বাসের সাথে শ্বাস, নামহীন এই চলার গতি দিন পেরিয়ে মাস।। 

সপ্নসম্ভব

পলাতক হয়ে তুমি ফিরে এসো, রুক্মিনী তোমায় নিয়ে স্বপ্নে আজও বাসা বাঁধি আমি এক কামরার ঘরে  খানিক সোহাগ মাখানো আলোয়- বার্ধক্য কাটিয়ে দেবো জীর্ণ চিলেকোঠায়; স্বপ্ন হলে শেষ, আমার ভোর হয়ে যায় রাত ঘিলুর মধ্যে পাক খেয়ে যায় উইন্ডোজ সাত নিয়মমাফিক জীবনে, সস্তা চায়ের ভাঁড় পলিটিকাল ইস‍্যু নিয়ে তর্জা তুলকালাম; তবু ভিড় পেরিয়ে চোখ এড়িয়ে সামলে চলি পথ, আর ফাগুন রাতে একলা ছাদে চিঠির এনভেলপ্ ভুলতে ভুলতে কালের স্রোতে তোমার- না-থাকা কে সঙ্গে রেখেই এগোই বারোমাস জানবে না শহর তোমায়, ভালোবেসেছি এক আকাশ।।