মনখারাপ

“মাথা নিচু করেই তো আছি ঈশ্বর
অনাবাসী আপনার স্বর্গের বারান্দায়”
কিন্তু আর কতদিন?
সকাল বেলা ঘুমকাতুরে চোখে, নাকে মুখে খেয়ে দৌড় লাগানোর অভ্যেসে, আরও খানিকটা এগোতে এগোতে পিছনে ফেলে আসছিলাম অনেক 'না-বলা' কথাদের।
'Time will heal everything'- এর কোটেশন মুখস্থ করে, 'Mutual Fund'-এর মতো অনেক 'না-শেষ' হওয়া অভিমানকে’ও বাধ্য হয়েই ভুলে যাচ্ছিলাম ব্যস্ততার ঘেরাটোপে।
আর 5G স্পীডে এগিয়ে যাওয়া যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও টেক্কা দিয়ে যাচ্ছিলাম কোনমতে।
কিন্তু হঠাৎ ব্রেক লাগলো পৃথিবী জুড়ে, চমকেদিয়ে থমকে গেলো এগিয়ে চলা।
প্রথমদিকে সামান্য পেট ব্যাথা, মাথা ব্যথাকেই অসহ্যরকম লাগলেও পরের দিকে নিজের অজান্তেই সুদে-আসলে ফিরে আসতে লাগলো Mutual fund-এ জমিয়ে রাখা ছোট ছোট পুরোনো সব অভিমানের ইমারত- পাহাড় প্রমাণ হয়ে, নদীর মতো ফিরে এলো, না-বলা কত কথার স্রোত। কান্না এলো আপাদমস্তক, বুক ফাঁটলো, তবু মুখ খুললো না।
আসলে পেট খারাপ হলে সেটা বলা যায় পাঁচটা মানুষকে, তার মধ্যে একটা গ্লোরি আছে। মানুষ সেটা বোঝে, কেউ আবার ঘোরোয়া টোটকাও দেয়। খুব বেশী বাড়াবাড়ি হলে ডাক্তার বা হসপিটাল। অর্থাৎ যথোপযুক্ত চিকিৎসার ব‍্যবস্থা নেওয়া হয় প্রথম থেকেই।
কিন্তু ডিপ্রেশন?
সেটা আবার কি?
মা-কাকিমারা যেটা বোঝেন না, বা বুঝলেও এটা বলার মতো আবার কোন সমস্যা নাকি?
আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে যেখানে প্রতি ৫টা মানুষে ৪টে মানুষই ভুগছে মানসিক অবসাদে। সেখানে কার্ডিয়লজিস্টের থেকে সাইক্রিয়ার্টিস্ট-এর পসার কম।।
শুধু বন্ধু না, শুধু শেয়ার করাই ultimate না, বরং ডিপ্রেশনটাকে আর পাঁচটা রোগের মতোই স্বাভাবিক ভাবা শুরু করে তার যথাযথ চিকিৎসা করানো শুরু হোক এবার।।
আর যদি এখনও বুদ্ধির গোড়ায় নাড়া না লেগে থাকে, তাহলে সুশান্ত সিং রাজপুত তার প্রতক্ষ্য উদাহরণ।

পুনঃশ্চ-don't let it go, admit it and speak it out. Every problem can be treated.

Comments

Popular posts from this blog

স্রোত

বালির ঘর

গল্প কথা